সংগ্রাম, ত্যাগ, ভালোবাসায় মা দিবসে ইতিকথা।
সংগ্রাম, ত্যাগ, ভালোবাসায় মা দিবসে ইতিকথা ।   ছবি: আরটিএনএন

বিশ্ব মা দিবস হলো পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্ক ‘মা’-কে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর একটি বিশেষ দিন। আনা জার্ভিস ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই দিবসের সূচনা করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মায়েদের অকৃত্রিম ত্যাগ ও সমাজ গঠনে তাঁদের অবদানকে সম্মান জানানো। যদিও প্রতিটি দিনই মায়ের, তবুও এই দিনে বিশেষভাবে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

‘মা’ একটি ছোট শব্দ, কিন্তু এর গভীরতা আকাশসম। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনে মায়ের অবস্থান অনন্য ও অদ্বিতীয়। জন্মের আগ থেকেই সন্তানের সঙ্গে মায়ের যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা পৃথিবীর অন্য কোনো সম্পর্কের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তাই মাকে বলা হয় সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয় এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক।

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো অনেকটাই কমে এসেছে। কর্মব্যস্ত সন্তানেরা হয়তো প্রতিদিন মায়ের পাশে বসে কথা বলার সুযোগ পায় না, কিন্তু একজন মা সন্তানের প্রতিটি ছোট-বড় বিষয় নিঃশব্দে খেয়াল রাখেন। সন্তানের সফলতায় তিনি যেমন আনন্দে ভাসেন, তেমনি কষ্টে নীরবে চোখের জল ফেলেন। মায়ের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতিদান কখনোই পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব নয়।

গ্রামবাংলার মায়েরা সংসারের হাল ধরতে দিনরাত পরিশ্রম করেন। আবার শহরের কর্মজীবী মায়েরা অফিস সামলে সন্তান ও পরিবারকে সমানভাবে সময় দেন। একজন মা নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। তাই মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি একজন যোদ্ধাও।

তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী বলেন, মায়ের প্রতি ভালোবাসার গভীরতা তখনই বোঝা যায়, যখন তিনি দূরে থাকেন। তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লেখেন—

ভালোবাসা বুঝতে চাও
মায়ের কাছে যাও
কবিতা শুনতে চাও
মায়ের কাছে যাও
হৃদয়ের ব্যথা মুছতে চাও
মায়ের কাছে যাও
স্পর্শের শক্তি বুঝতে চাও
মায়ের কাছে যাও

সবাই জানে ভালোবাসতে
মা পারে ভালো রাখতে
সবাই হয়তো ডাকবে কাছে
মা চাইবে টানতে কাছে

জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা কখনো কখনো অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও মায়ের অস্তিত্বই সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোকসানা আক্তার বলেন, ‘মা’ শুধু একটি শব্দ নয়, এটি একটি অনুভূতি, একটি দায়িত্ব এবং প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এক যাত্রা। সংসার, দায়িত্ব, পরিবার ও নিজের স্বপ্ন—সবকিছু সামলাতে গিয়ে একজন মা বারবার ক্লান্ত হলেও থেমে যান না। তাঁর শক্তির উৎস হয় সন্তান ও পরিবার।

তিনি আরও বলেন, একজন মা ধৈর্য, সহনশীলতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ শেখেন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। সন্তানের হাসিই তাঁকে আবারও শক্তি জোগায়। তাঁর মতে, একজন মা এমন এক শক্তির আধার, যা ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। মা দিবসে তিনি বিশ্বের সব মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

একই অনুভূতি প্রকাশ করে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিম হোসেন বলেন, ছোটবেলায় ব্যথা পেলে মুখ থেকে প্রথম যে শব্দটি বের হয় তা হলো ‘মা’। কারণ মা-ই সন্তানের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সন্তানের সুখের জন্য একজন মা নিজের সব কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করেন।

প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী মা দিবস পালিত হলেও মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন নেই। মায়ের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না, শুধু ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করা যায়।

মাকে নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য কবিতা, গান ও সাহিত্য, তবুও মায়ের সংজ্ঞা আজও অসম্পূর্ণ। স্নেহ, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের ছায়ায় আগলে রাখা সেই মানুষটির নামই মা, যাঁর প্রতি সন্তানের ভালোবাসা কখনো ফুরায় না।

ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা।