ছয় বছর আগে আলোচিত অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ফাঁস হওয়া একটি অডিও ক্লিপ নতুন করে বিপাকে ফেলেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার রিজভী কোরায়েশীকে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালে সিআইডির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আকসাদুদ–জামানকে অপহরণ করে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ ঘটনায় আকসাদুদের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন ও কায়সার কোরায়েশীর মধ্যে মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাহমিনাকে বলতে শোনা যায়, “১ কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই। আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?”
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা
বিভাগীয় মামলার তদন্ত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, কায়সার কোরায়েশীসহ ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কায়সার কোরায়েশীর বিরুদ্ধে অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অপরাধ গুরুতর হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বরখাস্ত বা অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
কায়সার কোরায়েশীর পাশাপাশি আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পরিদর্শক জাহিদুর রহমান ও মিজানুর রহমান, এসআই মাসুদুল ইসলাম, এএসআই প্রকাশ চন্দ্র গুহ, মো. জুলহাস মিয়া এবং কনস্টেবল মাসুদ রানা। তাঁদের বিরুদ্ধে পদোন্নতি স্থগিত থেকে শুরু করে বেতন কর্তনের মতো বিভিন্ন দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ক্ষেত্রে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও কারাদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কেবল বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ মাত্র।
ঘটনার পটভূমি
২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকায় আকসাদুদ–জামানকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয় এবং পরে আরও ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর পর দুই দিন পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বর্তমানে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আকসাদুদ–জামান জামিনে আছেন।
এই ঘটনায় ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ নতুন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি সামনে এনেছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!