সফট ড্রিংকস
সফট ড্রিংকস   ছবি সংগৃহীত

গরমে ক্লান্তি দূর করতে কিংবা ব্যস্ততার ফাঁকে অনেকের কাছেই এক গ্লাস ঠান্ডা সফট ড্রিংকস যেন তাৎক্ষণিক স্বস্তির নাম। তবে এই অভ্যাস থেকে মাত্র এক মাস দূরে থাকলেও শরীরে দেখা দিতে পারে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সফট ড্রিংকস পান বন্ধ করলে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই নয়, ঘুম, ত্বক ও দৈনন্দিন শক্তির ওপরও ভালো প্রভাব পড়তে পারে।

সফট ড্রিংকসে থাকা অতিরিক্ত চিনি শরীরে খুব দ্রুত শক্তি জোগায়। কিন্তু সেই শক্তি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয় না। কিছুক্ষণ পর রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে অনেকের ক্লান্তি, ঝিমুনিভাব বা অবসাদ অনুভূত হতে পারে। এক মাস এসব পানীয় এড়িয়ে চললে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে শক্তি ধরে রাখার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। ফলে সারাদিন তুলনামূলক সতেজ থাকা সহজ হতে পারে।

ত্বকের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, যা ত্বকে ব্রণ, রুক্ষতা কিংবা নিস্তেজ ভাব তৈরি করতে পারে। নিয়মিত সফট ড্রিংকস পান কমিয়ে দিলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনেকের ত্বক তুলনামূলক পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত দেখাতে শুরু করে।

ঘুমের মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কোলা বা এ ধরনের অনেক পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে, যা বিশেষ করে রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। নিয়মিত এসব পানীয় না খেলে ঘুম দ্রুত আসতে পারে এবং ঘুম আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্যও সফট ড্রিংকস কমানো উপকারী। এসব পানীয়তে থাকা অতিরিক্ত চিনি ও অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস চলতে থাকলে দাঁতে ক্যাভিটি বা সংবেদনশীলতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এক মাসের জন্য হলেও সফট ড্রিংকস বাদ দিলে দাঁতের সুরক্ষা বাড়তে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফিজি ড্রিংকসে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি অনেক সময় অজান্তেই শরীরে জমে যায়। নিয়মিত এসব পানীয় এড়িয়ে চললে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ কমে আসে। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে, পাশাপাশি শরীরের ফোলাভাবও কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।

শুরুতে অভ্যাস বদলানো কঠিন মনে হলেও অল্প সময়ের এই পরিবর্তন শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সফট ড্রিংকসের বদলে পানি, ডাবের পানি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়া ধীরে ধীরে ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র : লিভওয়েল