পয়লা বৈশাখ উদযাপনে ঘরে বাইরে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
গরমে ঘাম বেশি হওয়ায় শরীর দ্রুত পানি হারায়।   ছবিতে মডেল ও অভিনেতা আমির পারভেজ, অভিনেত্রী জাকিয়া ইমি ও তাদের পুত্র আহিল।

য়লা বৈশাখ মানেই রঙিন পোশাক, শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ আর দিনভর ঘোরাঘুরি। তবে এই আনন্দের মধ্যেই থাকে আরেকটি বাস্তবতা সেটি হচ্ছে- তীব্র গরম আর কাঠ ফাটা রোদ। এই দিনের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য উৎসবের দিনটিতে নিজের ও পরিবারের সুস্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি নজর দেয়া জরুরি। 

বাংলা নববর্ষের এই সময়টায় রোদ ও তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে, অসাবধান হলে যা শরীরে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই উৎসব উপভোগের পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকাও জরুরি।  

পান্তা ভাত বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে পহেলা বৈশাখ বা গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছবি। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, পান্তা ভাত কেবল উৎসবের খাবার নয়, বরং এটি একটি সুপারফুড। গরমের সকালে শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে পেটের জটিল রোগ সারাতে পান্তা ভাতের জুড়ি নেই। রাতভর ভাতে পানি দিয়ে রাখলে যে ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া ঘটে, তা ভাতের পুষ্টিগুণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সকালে ঘরে ও বাইরে শরীর ঠান্ডা রাখতে সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার বৈশাখের আনন্দ ও ভ্রমণকে নিরাপদ করতে। আর তাই দেখে নিন এই জরুরি বিষয়গুলো কি কি?

১. পানিশূন্যতা

প্রথমেই আসে পানিশূন্যতার ঝুঁকি। গরমে ঘাম বেশি হওয়ায় শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই বাইরে বের হলে সঙ্গে পানি রাখা এবং বারবার অল্প অল্প করে পানি পান করা জরুরি। ডাবের পানি বা লেবুর শরবতও ভালো বিকল্প হতে পারে।

২. হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি

রোদে থাকার সময় নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোদ সবচেয়ে তীব্র থাকে। এই সময় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে হিট এক্সহসশন বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা বা বিরতি নেয়া উচিত।

৩. পোশাক

পোশাক নির্বাচনেও সচেতনতা দরকার। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় গরমে বেশি আরাম দেয়। এতে শরীরের তাপ কম জমে এবং ঘাম সহজে শুকায়।

৪. অপরিচ্ছন্ন খাবার

উৎসবের দিন অনেকেই রাস্তার খাবার বা শরবত খেতে পছন্দ করেন। তবে খাবারের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা খুব জরুরি। খোলা খাবার বা অপরিষ্কার পানিতে তৈরি শরবত খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব নিরাপদ ও পরিষ্কার খাবার বেছে নিন।

৫. অতিরিক্ত ভিড়

অতিরিক্ত ভিড়েও সতর্ক থাকুন। ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় থাকলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।

৬. ত্বকের ক্ষতি

এছাড়া সানস্ক্রিন, ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়া যায়।

৭. স্বাস্থ্যসমস্যা

যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সময়মতো ওষুধ খাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে চলা উচিত। 

৮. শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন 

অতিরিক্ত ভিড়ে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট বা অস্থিরতা হতে পারে তাই বড় জমায়েত এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তাদের নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করান এবং দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন।

মোটের ওপর নিজের শরীরের সংকেতগুলো খেয়াল করুন। অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমিভাব বা জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন।

উৎসব আনন্দের, কিন্তু সুস্থ থাকলে তবেই তা উপভোগ করা সম্ভব। তাই সামান্য সচেতনতাই পারে পয়লা বৈশাখের দিনটিকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করে তুলতে।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইসিডিডিআরবি, মায়ো ক্লিনিক 

 

এসএস/আরটিএনএন