দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।   ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সময়ে পাল্টা হামলার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের দেইর কানুন শহরের একটি বাড়িতে চালানো বিমান হামলায় ১০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও তিন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে।

গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায়। গোষ্ঠীটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই লেবানন সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছিল। জুনের শুরুতে নতুন করে আলোচনায় বসার কথাও রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ হয়নি।

ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলায় প্রায়ই বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা একটি ইসরায়েলি ট্যাংক ধ্বংস করেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলায় তাদের আরও এক সেনা নিহত হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ ও সুর জেলাতেও আলাদা বিমান হামলায় আরও ৯ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে।