মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ভারতের বিমান খাত। এই পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধও করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, আগামী জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হবে বলে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো বা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংস্থাটি।
মূলত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং আকাশপথে বিধিনিষেধের ফলে দূরপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনা করা এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য বাণিজ্যিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই ঘোষণার কয়েক দিন আগেই এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স গত ২৬ এপ্রিল সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরো বিমান শিল্প ‘চরম চাপে’ রয়েছে এবং ‘পরিচালনা বন্ধের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে।
এয়ার ইন্ডিয়া বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, বিনা খরচে তারিখ পরিবর্তন বা পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুযোগ দেয়া হবে।
হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি-শিকাগো রুটের ফ্লাইট পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। দিল্লি-সান ফ্রান্সিসকো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০টি থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে, যা আগস্টের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে। দিল্লি-টরন্টো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০ থেকে কমিয়ে জুলাই পর্যন্ত ৫টি করা হয়েছে। আগস্টে আবার প্রতিদিনের ফ্লাইট চালু হবে।
দিল্লি-ভ্যাঙ্কুবের রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭ থেকে কমিয়ে ৫টি করা হয়েছে। অন্যদিকে মুম্বাই-নিউয়ার্ক রুটে সাপ্তাহিক ৩টি ফ্লাইট বাড়িয়ে প্রতিদিনের সেবা চালু করা হচ্ছে। দিল্লি-জেএফকে রুটে আগের মতোই সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট থাকবে। তবে দিল্লি-নিউয়ার্ক ও মুম্বাই-জেএফকে রুট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া দিল্লি-প্যারিস রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১৪ থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে। দিল্লি-কোপেনহেগেন, দিল্লি-ভিয়েনা, দিল্লি-জুরিখ ও দিল্লি-রোম রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৪ থেকে কমিয়ে ৩টি করা হয়েছে। দিল্লি-মিলান রুটে ফ্লাইট ৫ থেকে কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে।
দিল্লি-মেলবোর্ন ও দিল্লি-সিডনি রুটেও প্রতিদিনের ফ্লাইট কমিয়ে সপ্তাহে ৪টি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দিল্লি-সাংহাই, চেন্নাই-সিঙ্গাপুর, মুম্বাই-ঢাকা এবং দিল্লি-মালে রুট আগস্টের শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
দিল্লি-সিঙ্গাপুর রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ২৪ থেকে কমিয়ে ১৪টি করা হয়েছে। মুম্বাই-সিঙ্গাপুর রুটে ফ্লাইট ১৪ থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে। জুলাই থেকে দিল্লি-ব্যাংকক রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ২৮ থেকে কমিয়ে ২১টি এবং মুম্বাই-ব্যাংকক রুটে ১৩ থেকে কমিয়ে ৭টি করা হবে।
এছাড়া দিল্লি-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট ১০ থেকে কমিয়ে ৫টি করা হয়েছে। জুলাই ও আগস্টে দিল্লি-হো চি মিন সিটি রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭ থেকে কমিয়ে ৪টি এবং দিল্লি-হ্যানয় রুটে ৫ থেকে কমিয়ে ৪টি করা হবে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!