ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম।
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম।   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবকে ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলার পর সোমবার (১১ মে) এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তেহরানের প্রস্তাবে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আর কোনো হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩০ ডলারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব আমি পড়েছি। এটি আমার মোটেও পছন্দ হয়নি— এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিতের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একাধিকবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে তেহরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে রেখেছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বাড়ায় বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফাও বেড়েছে। রোববার সৌদি আরবের জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো জানিয়েছে, বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

কোম্পানিটির প্রধান আমিন নাসের বলেন, সৌদি আরবজুড়ে বিস্তৃত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে কাজ করেছে এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচলে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সহায়তা করেছে।

গত মাসে ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি বিপি জানিয়েছিল, বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একইভাবে শেল গত সপ্তাহে আয় বাড়ার ঘোষণা দেয়।

এমআর/আরটিএনএন