বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিতানিয়াহু প্রশাসন।
বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিতানিয়াহু প্রশাসন।   ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে তেল আবিবের রাজপথ।

শনিবার (৯ মে ) দিবাগত রাতভর চলা এই বিক্ষোভে কয়েকশ মানুষ অংশ নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের যুদ্ধনীতি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা মনে করছেন, সরকারের বর্তমান অবস্থান ইসরাইলকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমুখী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকরা সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের অনেকেই বর্তমান সরকারকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসন যুদ্ধের অজুহাতে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য আড়াল করছে। বিশেষ করে কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ ইসরাইলিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের মতে, বহিঃশত্রুর চেয়েও দেশের ভেতরের এই বৈষম্য এবং রাজনৈতিক বিভাজন ইসরাইলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন বৈপ্লবিক স্লোগান ও ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড বহন করছেন। যেখানে একদিকে গাজা ও লেবাননে চলমান সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও দাবি তোলা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন নেতানিয়াহু প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে।

একদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং অন্যদিকে নিজ দেশের জনগণের ধারাবাহিক অসন্তোষ—সব মিলিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত ইসরাইলের জনজীবনে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, এই বিক্ষোভ তারই প্রতিফলন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান বা জনগণের দাবি আমলে নেওয়া না হয়, তবে এই অস্থিরতা আগামী নির্বাচন ও ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।