নেপাল,সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গ্রেপ্তার
নেপালের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক গ্রেপ্তার।   ছবি: সংগৃহীত

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সংগঠিত ভয়াবহ ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ও প্রাণহানির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে এবং পরবর্তীতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে হেফাজতে নেওয়া হয়। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর শপথ গ্রহণের মাত্র একদিন পর এই পদক্ষেপ নিল নেপাল পুলিশ।

কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।"

গ্রেপ্তারের পর, নেপালের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, "এই পদক্ষেপ কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং এটি ন্যায়বিচারের শুরু।" তিনি আরো বলেন, "আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ এক নতুন দিকে ধাবিত হবে।"

তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসামূলক। তিনি আরো বলেন, "আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।"

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী এক ছাত্র-যুব গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ১৯ জন তরুণসহ মোট ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন ও সরকারি দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা তৎকালীন অলির সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সহিংসতার ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করেন। শুক্রবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ওই তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, "বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে তা বন্ধে বা নিয়ন্ত্রণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কোনো কার্যকর প্রচেষ্টা ছিল না।"

কমিশনের প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং তৎকালীন পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।