শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা   ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা শত শত নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে, সেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারত একই সূত্রে গাঁথা। ক্যাম্পাসগুলোকে ছাত্রলীগ জাহান্নামে পরিণত করেছিল। দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠনও আওয়ামী লীগের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) শহীদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস: নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ৯টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা তুলে ধরা হয়। পরে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আবরার ফাহাদের কথাগুলো আমাদের সকলের কথা। সেই স্ফুলিঙ্গ পাঁচ বছর পরে বিশাল আকার ধারণ করে। হাসিনার মসনদ কাঁপিয়ে তাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছে। সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয় -এটা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বুঝতে হবে।”

ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে ভায়োলেন্সমুক্ত ক্যাম্পাস। এই মধুর ক্যান্টিনে দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আবরার ফাহাদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। একই সিলসিলায় কথা বলেছিলেন আমাদের মেজর জিয়া, খালেদা জিয়া, শহীদ ওসমান হাদীসহ জুলাই আন্দোলনকারীরা। এখন এই নতুন বাংলাদেশে আমাদের বুঝতে হবে, আমাদের শত্রু কারা এবং মিত্র কারা।”

ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এস. এম. ফরহাদ বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে গত ১৫ বছর যত নির্যাতন হয়েছে, তার প্রাথমিক কাঠামো ছিল গণরুম ও গেস্টরুম। এই গণরুম ও গেস্টরুমের সংস্কৃতি ছাত্রলীগ শুরু করেনি, বরং ছাত্রদল শুরু করেছিল। আবারও আমরা তাদের সেই প্রয়াস দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে।”

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, “যারা নতুন করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের পরিকল্পনা করছে, তাদেরও ছাত্রলীগের মতো ভবিষ্যৎ বরণ করতে হবে। আমরা চাই, সকল ছাত্রসংগঠন একত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যেতে।”

তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের নিপীড়ন, সহিংসতা ও মানবিক মর্যাদাহানি গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস. এম. ফরহাদসহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদদ হোসাইন খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক।