রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে ঘেরাও করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। উপাচার্যের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজ না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করে জানান, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, সহসভাপতি সালাম এবং লক্ষ্মীপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহিনসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন।
তাঁর অভিযোগ, পরে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে চান -এমন বক্তব্যসংবলিত একটি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামেবির কার্যালয়ে গিয়ে এই ঘটনা ঘটায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ‘ভিসি ঘেরাও কর্মসূচি’ নামে মিছিল নিয়ে ওই ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পর একপর্যায়ে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে ঘেরাও করা হয়।
ডা. জাওয়াদুল হকের অভিযোগ, তাঁর কাছে বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি কাজ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার একদল ব্যক্তি জোর করে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন।
উপাচার্য বলেন, তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীদের তৈরি করা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
পরে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ডা. জাওয়াদুল হক। তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও অবরুদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘জোর করে এভাবে কখনো পদত্যাগ করানো যায় না। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় সেখানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেও জানান তিনি।
উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে স্বাক্ষর করায়। এটা কোনো ইস্তফা নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করা হয়েছে।’
ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তিনি ঢাকায় আছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি তিনি কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরেছেন। কারা এবং কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কেউ বিএনপির হলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনের অভিযোগে যেসব বিএনপি ও কৃষক দলের নেতার নাম এসেছে, তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!