কারিগরি শিক্ষায় ভয়াবহ সংকট, শিক্ষক শূন্যতা ৮২ শতাংশ
জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপ।   ছবি: আরটিএনএন

দেশে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর একটি হিসেবে কারিগরি শিক্ষাকে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে এ খাত এখন নানা সংকটে জর্জরিত বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। শিক্ষক সংকট, কম কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হ্রাস পাওয়ায় কারিগরি শিক্ষা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার ৫০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে নেট এনরোলমেন্ট মাত্র ৫ শতাংশের কাছাকাছি। সরকারিভাবে এ হার ১৮ শতাংশ দাবি করা হলেও প্রকৃত চিত্র আরও কম বলে উল্লেখ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষক নিয়োগে সমন্বিত মানদণ্ডের অভাব রয়েছে এবং প্রায় ৮২ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত নীতিমালায় ১২:১ নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তা ৯২:১-এ পৌঁছেছে।

এ ছাড়া কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে কারিগরি শিক্ষায় কর্মসংস্থানের হার ছিল ৮৫ শতাংশ, যা ২০২০ সালে কমে ৫৪ শতাংশে নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষতা-নির্ভর অর্থনীতি গড়তে হলে কারিগরি শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।