রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে তার নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট সমাধান, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ আরও সুসংহত হবে বলে তারা আশাবাদী।
প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ফারিহা বলেন, ‘একটি শিক্ষাবান্ধব, নিরাপদ ও আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। আমরা চাই নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সেশনজট দূর করা হোক এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি উন্নত লাইব্রেরি, গবেষণাগার, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও পর্যাপ্ত ওয়াই-ফাই সেবা শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, আমরা বিশ্বাস করি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান, মানবিকতা ও উন্নয়নের একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান।’
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা জুসি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটমুক্ত পরিবেশ যেন ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, এমন একটি প্রত্যাশা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সাবেক ভিসির আমলে যে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের পরিবেশ গড়ে উঠেছিল, তার ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে, যেখানে একাডেমিক পরিবেশ থাকবে শান্ত ও স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও সহায়ক শিক্ষানবিশ পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনে আরও মনোযোগী হতে পারে। একই সঙ্গে ক্লাসরুম সংকট নিরসন, ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ক্যাফেটেরিয়া ব্যবস্থা এবং অবসর সময়ে বসে সময় কাটানোর উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।’
ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ‘নতুন উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ আরও উন্নত করা। সাবেক উপাচার্য স্যার সেশনজট কমানোর জন্য যেভাবে কাজ করেছেন, আমরা আশা করি নতুন উপাচার্যও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। ইতোমধ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় প্রত্যাশা হলো দ্রুত ছাত্র হল নির্মাণ ও আবাসন সমস্যার সমাধান করা। পর্যাপ্ত হল সুবিধা নিশ্চিত হলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে।’
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ইমরান সাজ্জাদ সাব্বির বলেন, ‘উপাচার্যের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে যাতে উনি একজন শিক্ষার্থীবান্ধব অভিভাবক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সচেষ্ট থাকেন।’
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক বলেন, ‘নতুন উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রত্যাশা হলো, তিনি একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলবেন। শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের যৌক্তিক প্রত্যাশাগুলো পূরণ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করবেন এবং সেশনজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং যানবাহন সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করি। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন উপাচার্য মহোদয়ের নেতৃত্বে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে।’
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!