অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতি অভিযোগ করেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
সংগঠনটির দাবি, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও ১ হাজার ৫১৯টি স্বীকৃত ইবতেদায়ি মাদরাসার একটিও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। এমনকি অনুদানবিহীন ১৫ হাজার ৪৮১টি ইবতেদায়ি মাদরাসার একটিকেও অনুদানের আওতায় আনা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মুহা. বশির উল্লাহ আতাহারী।
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধিত অনুদানবিহীন ইবতেদায়ি মাদরাসাসমূহের বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সকল ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হাফেজ মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মাও. কাজী কবির হোসেন, বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব মো. শামছুল আলমসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরিত মাদরাসা শিক্ষা অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর আওতায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮৩ সালের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফোরকানিয়া মাদরাসাগুলোকে ‘ইবতেদায়ি মাদরাসা’ হিসেবে নামকরণ করা হয় এবং ১৯৮৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ইবতেদায়ি মাদরাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
তারা দাবি করেন, এনসিটিবি’র শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে কোরআন-সুন্নাহ ও আরবি শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হলেও এখনো এসব মাদরাসা জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়নি।
তাদের দাবি, ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতোই পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা ও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং পরবর্তীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।
তারা জানান, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে স্বীকৃতি দেয়। এছাড়া ১৯৮৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে সমমান ঘোষণা করা হয়। এরপরও জাতীয়করণের ক্ষেত্রে বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইবতেদায়ী মাদরাসাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্থায়ী স্বীকৃতি প্রদান, স্থায়ী স্বীকৃতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নবায়ন ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ, নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (ক্বারী) পদে ১৬তম গ্রেডের পরিবর্তে ১৩তম গ্রেড প্রদান, আট বিভাগে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণ।
এছাড়া আগামী ২০ মে ২০২৬-এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২১ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারাদেশের শিক্ষকরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং ঈদ উৎসব বর্জনের ঘোষণা দেন তারা। একই সঙ্গে ইবতেদায়ি মাদরাসার স্থায়ী স্বীকৃতি ও নবায়ন ফি ৫০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!