নোবিপ্রবিতে পিএইচডির ভাতা কমিয়ে ২৫ হাজার, গবেষকদের অসন্তোষ 
নোবিপ্রবিতে পিএইচডির ভাতা কমিয়ে ২৫ হাজার, গবেষকদের অসন্তোষ ।   ছবি: আরটিএনএন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পিএইচডি গবেষকদের মাসিক ভাতা ৪০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় গবেষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য গবেষকদের প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। তবে পরে প্রশাসনের জারি করা এক অফিস আদেশে সেই ভাতা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এতে পূর্বঘোষিত সুবিধার ওপর আস্থা রেখে ভর্তি হওয়া গবেষকেরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (জুলাই-ডিসেম্বর) পিএইচডি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে গবেষকদের জন্য ৪০ হাজার টাকা মাসিক ফেলোশিপের ঘোষণা দেওয়া হয়। জাতীয় দৈনিকেও একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রেজিস্ট্রার দপ্তরের শিক্ষা শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বরাদ্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক গবেষককে ফেলোশিপ দেওয়া হবে এবং নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গবেষকেরা জানান, আগের সেশনের ফেলোরা ৪০ হাজার টাকা করে ভাতা পেলেও চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ১৮ জন ফেলো এখনো কোনো ভাতা পাননি। বিষয়টি নিয়ে গত ২০ এপ্রিল তাঁরা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেখানে পূর্বঘোষিত ৪০ হাজার টাকা ভাতা বহাল রাখা, বকেয়া ভাতা পরিশোধ এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পিএইচডি ফেলো মো. ইয়াসিন বলেন, ৪০ হাজার টাকার ফেলোশিপের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেছিলাম। এখন ভাতা কমানোর খবরে আমরা হতাশ। ফেলোশিপ গ্রহণপত্রেও টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই, এতে ভবিষ্যতে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক গবেষক বলেন, পূর্বঘোষিত ভাতা অনুযায়ী আমরা পরিকল্পনা করেছি। হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে গবেষণার পরিবেশ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রিসার্চ সেল ও ফেলোশিপ কমিটির যৌথ সভায় ৪০ হাজার টাকা বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ইউজিসির বরাদ্দের বাইরে অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই। বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে যোগ্য গবেষকদের ২৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।