ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে চার কোটি টাকার বাজেট আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ডাকসুর নেতারা।
তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ফাইলে স্বাক্ষর না করায় উদ্যোগটি বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ পৃথক ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করেন।
পোস্টে আসিফ আব্দুল্লাহ লেখেন, শনিবারের বাসের ট্রিপ আটকে দেওয়ার সুপারিশ করলেন ঢাবি ট্রেজারার জাহাঙ্গীর; অথচ ডাকসুর আপ্রাণ চেষ্টায় ইউজিসি থেকে পরিবহন খাতেই সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম।
একই অভিযোগ তুলে মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ লেখেন, ডাকসু ভিপি ও পরিবহন সম্পাদকের প্রচেষ্টায় ইউজিসি থেকে পরিবহন খাতে সাড়ে চার কোটি টাকার বরাদ্দ আনা হলেও ট্রেজারার শনিবারের বাস সার্ভিস আটকে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
এর আগে বুধবার (৬ মে) ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমাও ফেসবুকে ট্রেজারারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন।
তিনি দাবি করেন, শনিবারের বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক এবং এ লক্ষ্যে ইউজিসি থেকে বাজেটও আনা হয়েছে। তবে ফাইলটি ট্রেজারারের দপ্তরে আটকে রয়েছে।
সর্ব মিত্র চাকমা লেখেন, “ফাইলটি ট্রেজারারের টেবিলেই ছিল। কিন্তু তিনি সাইন করবেন না বলে জানিয়েছেন। বরং নেগেটিভ ফিডব্যাক দিয়ে কাগজ পাঠানোর কথা বলেছেন। কখন ফিডব্যাক পাওয়া যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার অফিস কি তোমার কথায় চালাব?’ অসহযোগিতা করতেই পারেন, কিন্তু অপমান করার অধিকার আপনার নেই স্যার।”
তিনি আরও লেখেন, “ছাত্রদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে ঝগড়া করার এই ইম্যাচিউরিটি পরিহার করে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তিনি কোনো ফাইল আটকে রাখেননি। তিনি বলেন, “সকাল থেকে আমি ধারাবাহিক মিটিংয়ে ছিলাম। ওরা এসে বলছিল, ‘স্যার, এখনই সাইন করে দেন।’ কিন্তু একটি ফাইল আমার অফিসে আসার পর সেটি তো আমাকে দেখতে হবে, মতামত দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যেটা প্রয়োজন, আমি সেটাই করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তখন বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ছিলাম। তাদের বলেছি, ফাইল দেখে মতামত দেব। এটা পড়ে থাকবে না। কিন্তু এটাকে যদি বলা হয় যে আমি ফাইল আটকে রেখেছি, তাহলে আমার কিছু বলার নেই।”
দুই বছরের জন্য ইউজিসির দেওয়া বাজেট প্রসঙ্গে ট্রেজারার বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি কোনো সেবা চালু করে, পরে সেটি বন্ধ করা কঠিন। এখন দুই বছরের জন্য বাজেট আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার অর্থায়ন বন্ধ করে দিলে তখন সার্ভিসটি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে যে বরাদ্দ আসে, ব্যয় তার চেয়েও বেশি হচ্ছে। তাই নতুন সার্ভিস চালুর ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!