ক্লাসরুম সংকটে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত কক্ষের অভাবে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক বিভাগের নিজস্ব নির্দিষ্ট ক্লাসরুমই নেই। বাধ্য হয়ে অন্য বিভাগের কক্ষের ওপর নির্ভর করে ক্লাস চালাতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ। প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো এই বিভাগটি এখনো পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও ল্যাবরুমের সংকটে ভুগছে। নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার মতো নির্দিষ্ট কক্ষ না থাকায় অনেক সময় একটি ল্যাবরুমকেই অস্থায়ী ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত সব ক্লাস মাত্র দুটি কক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রায়ই কলাভবনের বিভিন্ন ফাঁকা কক্ষে ক্লাস স্থানান্তর করতে হয়।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, “৫ম তলা থেকে নিচতলা-এমন কোনো ফ্লোর নেই যেখানে আমাদের ক্লাস হয়নি।” আরও বিস্ময়ের বিষয়, বিভাগটি বিজ্ঞান অনুষদের (বায়োলজি ফ্যাকাল্টি) অধীনে থাকলেও অবকাঠামোগত সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল হক বলেন, “আমাদের নির্দিষ্ট কোনো ক্লাসরুম নেই। প্রতিদিন ৬০৬০, ৬০৭১, ৩০১৭ কিংবা ১০২২ নম্বর কক্ষে ক্লাস করতে হয়। কিছু কক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান থাকলেও অনেক কক্ষে সেটিও নেই, আবার কোথাও সাউন্ড সিস্টেম নেই। ফলে ১০০–১১০ জন শিক্ষার্থীর ভিড়ে শিক্ষকের কথা সবার কাছে পৌঁছায় না।”
তিনি আরও জানান, অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা কক্ষ দাবি করলে মাঝপথেই ক্লাস বন্ধ করে অন্য কক্ষে যেতে হয়। “আজ সকালেও ৬০৬০ নম্বর কক্ষে ক্লাস শুরু করার পর অন্য বিভাগ এসে কক্ষ চাইলে আমাদের ৩০১৭ নম্বর কক্ষে চলে যেতে হয় এবং সেখানেই ক্লাস শেষ করতে হয়,” যোগ করেন তিনি।
বাংলা বিভাগ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট এবং বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আলম বলেন, “মাত্র দুটি ক্লাসরুমে পাঁচটি সেশনের ক্লাস নিতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর।”
উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী মায়াশা রাফিয়া জানান, “আমাদের বিভাগে মাত্র একটি ক্লাসরুম (৩০৫৫) রয়েছে, কোনো সেমিনার রুম নেই। প্রতিদিন তিন থেকে চারটি ক্লাস করতে হয়, যার জন্য ৫ম তলা, ৪র্থ তলা, আবার কখনো ২য় তলায় ছুটতে হয়। প্রতিদিন যেন ‘সিসিমপুরের গাড়ি’ হয়ে দৌড়াতে হচ্ছে।”
ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা বলেন, “একটি বড় ও একটি ছোট ক্লাসরুম আছে। ছোট কক্ষে ৪০–৫০ জন ঠিকমতো বসতে পারে না, অথচ আমাদের ক্লাসে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি। ফলে একেকটি ক্লাস শেষ করতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ডিন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে উন্নয়ন চোখে পড়ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলা অনুষদের ডিন আবুল কালাম সরকার বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি খুব শিগগিরই ক্লাসরুম সংকট থেকে মুক্তি পাব।”
এ অবস্থায় দ্রুত নতুন ক্লাসরুম নির্মাণ, বিদ্যমান কক্ষগুলোর সংস্কার এবং বিভাগভিত্তিক নির্দিষ্ট ক্লাসরুম বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, শিক্ষার মান বজায় রাখতে হলে অবকাঠামোগত সংকট নিরসন এখন সময়ের দাবি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!