ইবি ছাত্রনেতার ‘মাদক সেবনের’ ছবি ভাইরাল, দাবি ‘অভিনয়।
ইবি ছাত্রনেতার ‘মাদক সেবনের’ ছবি ভাইরাল, দাবি ‘অভিনয়।   ছবি: আরটিএনএন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার কথিত মাদক সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতা ছবিটিকে “অভিনয়” বলে দাবি করেছেন।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনকে মুখে সিগারেটসদৃশ বস্তু, হাতে লাইটার এবং একটি কাগজসহ দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের দাবি, ছবিতে থাকা বস্তুটি ইয়াবা বা ট্যাপেন্টাডলজাতীয় কিছু হতে পারে।

জানা গেছে, রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকে ঘটনার তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযুক্ত মুবাশ্বির আমিন বলেন, ছবিটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে তোলা, যখন তিনি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার দাবি, এটি কোনো মাদক সেবনের দৃশ্য নয়, বরং ‘র‍্যাগিং কালচার’-এর অংশ হিসেবে করা একটি অভিনয়ের ছবি।

তিনি আরও বলেন, “এটি ইয়াবা বা এ ধরনের কোনো দ্রব্য নয়। এটি ছিল একটি অভিনয়। একটি পক্ষ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। আমি এর আগেও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছি। শিগগিরই প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।”

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনজনকে বিবাদী করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রনেতা। জিডিতে মেহেদী হাসান হাফিজ, সাব্বির খান ও শাহিন আলমসহ আরও একজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

জিডিতে অভিযোগ করা হয়, ২৬ এপ্রিল দুপুরে শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানকালে বিবাদীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। তিনি জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।