শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) ১০ জন সাংবাদিক।
শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) ১০ জন সাংবাদিক।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) ১০ জন সাংবাদিক। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ‘শিবির-সাংবাদিক একসাথে চলে না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা। তাদের দাবি, এর কিছু সময় পর অন্য সাংবাদিকরা থানায় উপস্থিত হলে ছাত্রদলের নেতারা দুঃখ প্রকাশ করেন, তবে তা ছিল ‘নাটক’। এরপর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারী ইফাত হঠাৎ এসে বলতে থাকেন, ‘এই ভাইরে মারছে, এই ভাইরে মারছে।’ এ কথা বলে তিনি মব সৃষ্টি করেন, এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলে পড়েন।

এ ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরে ডুজার পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন:

ইমাম আল নাসের মিশুক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইইই বিভাগ, শহীদুল্লাহ হল)
আবুজার গিফারী ইফাত (আহ্বায়ক, মুহসীন হল)
মনসুর রাফি (সদস্যসচিব, মুহসীন হল)
কারিব চৌধুরী (সদস্য, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জিয়াউর রহমান হল)
জাহিন ফেরদৌস জামি (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জিয়াউর রহমান হল)
মমিতুর রহমান পিয়াল (যুগ্ম আহ্বায়ক, ক্রিমিনোলজি বিভাগ, শেখ মুজিবুর রহমান হল)
সানিন সায়েদ (লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, জহুরুল হক হল)
সুলায়মান হোসেন রবি (আইন বিভাগ, বিজয় একাত্তর হল, যুগ্ম আহ্বায়ক)
মনোয়ার হোসেন প্রান্ত (আহ্বায়ক, সূর্য সেন হল)
সাঈদ হাসান সাদ (সংস্কৃত বিভাগ, বিজয় একাত্তর হল)

এছাড়া একই ঘটনায় আরও দুজনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দলীয় অনুসারী পরিচয় অনুযায়ী অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতার অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডুজার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি। তাই অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং তাদের একাডেমিক সনদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।