অর্থাভাবে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ফিকে হচ্ছে ইবি শিক্ষার্থীর আজহারুল ইসলামের
অর্থাভাবে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ফিকে হচ্ছে ইবি শিক্ষার্থীর আজহারুল ইসলামের   ছবি: আরটিএনএন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালিত ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ট্যালেন্ট হান্ট-২০২৬-এ প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েও অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম কিনতে না পারায় থমকে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলামের জাতীয় প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্ন। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় বর্তমানে হতাশ তিনি।

জানা যায়, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী তরুণদের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন, তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনা এবং পেশাদার ক্রিকেট খেলার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ট্যালেন্ট হান্ট পরিচালনা করে বিসিবি। এতে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছিলেন ইবি শিক্ষার্থী আজহার। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের প্রতি গভীর আগ্রহ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলছিলেন তিনি।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তার স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সংকট। জাতীয় দলে খেলার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন ব্যাট, গ্লাভস, প্যাডসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম—যার বেশিরভাগই ক্রয় করা তার সাধ্যের বাইরে। পরিবারের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই বলে জানান তিনি। নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছেও আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন, তবে তাতে সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ তার।

হতাশ কণ্ঠে আজহারুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলে প্রাথমিকভাবে খেলার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্য। চূড়ান্ত বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য অনুশীলনে ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রয়োজন, কিন্তু তা কিনতে না পারায় খুব হতাশ লাগছে। ভিসি স্যারের কাছে আবেদন করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এতো খরচ বহন করা আমার পরিবারের পক্ষেও সম্ভব নয়। এখন মনে হচ্ছে, আমার ক্রিকেটার হওয়ার এবং বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার স্বপ্ন এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে।”

তবে সমাজের সামর্থ্যবান ক্রিকেটপ্রেমীদের আজহারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তার বন্ধুবান্ধবরা। তারা মনে করেন, যথাযথ সহায়তা পেলে আজহারুল দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবেন।

ইবি ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আজহারুল ইসলাম রিপন জাতীয় প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছে। তাকে সরঞ্জামসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদেরও বিষয়টি অবহিত করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। বর্তমানে সে ক্যাম্পাসে নেই। ফিরে এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করব এবং বিভিন্ন স্পন্সরশিপের মাধ্যমে কীভাবে তাকে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে তার পাশে থাকার অনুরোধ করছি।”