আবাসন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৩৬ জন মেয়াদোত্তীর্ণ নেতাকর্মীকে বিশেষ বিবেচনায় হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখনো আবাসন সুবিধা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসন সংকট নিরসনে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বণ্টন করা হয়েছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তদের তালিকায় ফার্মেসি, পদার্থবিজ্ঞান, আইএসআরটি, ইনফরমেশন সায়েন্স, প্রাণিবিদ্যা ও পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। তাদের সেশন ২০০৫-০৬ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত বিস্তৃত। অভিযোগ রয়েছে, অনেকে দীর্ঘদিন আগে শিক্ষাজীবন শেষ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় হলে অবস্থান করছেন।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “যেখানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা সিট না পেয়ে অনিশ্চয়তায় আছে, সেখানে এত পুরোনো সেশনের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায্য।”
আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা।
বিক্ষোভকারীরা “সিট আমার অধিকার”, “প্রথম বর্ষে বৈধ সিট দিতে হবে” এবং “অবৈধ সিট বণ্টন মানি না”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবন প্রদক্ষিণ করেন।
বিজয় একাত্তর হলের ভিপি হাসান আল বান্না বলেন, ৩৬ জন ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মী সিট পেয়েছেন, অথচ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত। তিনি এ সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ প্রশাসনকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিট সমস্যা সমাধান না হলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনে যেতে বাধ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ আবাসিক না হওয়ায় সবাইকে একসঙ্গে আবাসন দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটির সভায় আলোচনা করা হবে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টা চলছে।
প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যে ৩৬ জনকে সিট দেওয়া হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন—এই বিবেচনায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না এবং রাজনৈতিক প্রভাবেই সিট বণ্টন করা হচ্ছে।
এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকায় এসে থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন তারা, অথচ পুরোনো সেশনের শিক্ষার্থীরা সিট পাচ্ছেন-এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি অনিয়মিত শিক্ষার্থী বিভিন্ন উপায়ে হলে অবস্থান করছেন, যা নতুনদের সংকট আরও বাড়াচ্ছে। তারা স্পষ্ট নীতিমালা, সেশন বাউন্ডিং এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!