জাতীয়করণের দাবিতে  শিক্ষকদের  মানববন্ধন
জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন ।   ছবি: আরটিএনএন

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়েছে ৪ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়—এমন দাবি করেছেন মামুনুর রশিদ খোকন, বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে ২০১৩ সালের গেজেটের ভিত্তিতে জাতীয়করণের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ দাবি জানান।

মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, ২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার সারা দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়। তবে ২০১২ সালের মে মাসে সারা দেশে ৩০ হাজার ৩৫২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় বাদ দিয়ে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের ক্ষেত্রে ২০১২ সালের মে মাসের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এবং পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করা বিদ্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু সে সময় কিছু কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায়, সব শর্ত পূরণ করেও ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের বাইরে থেকে যায়। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১২ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০টি বিদ্যালয় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর তথ্য মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত আছে।

সংগঠনের মহাসচিব মোঃ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমেই মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন চললেও এখনো এর কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে শিক্ষকদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে—এ কারণে তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নেছার উদ্দিন নাছির বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও খাদ্য কর্মসূচি চালু করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এসব বিদ্যালয়ে লক্ষাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অধিকাংশ বিদ্যালয় প্রত্যন্ত গ্রাম ও হাওর অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই বেশি পড়াশোনা করে। এসব শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।