শহীদ আবু সাঈদের বইমেলায় প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ,
শহীদ আবু সাঈদ বইমেলা।   ছবি: আরটিএনএন

জুলাই শহীদ আবু সাঈদের নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বইমেলা। গত ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে মেলাটি শুরু হয়, যা চলে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে জ্বালানি সংকটের কথা বলে সন্ধ্যার মধ্যে মেলা বন্ধ করা, সময়, পরিসর ও প্রচারের ঘাটতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

১৫ এপ্রিল, বুধবার বিকেলে শহীদ আবু সাঈদ বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, ৩৫টি স্টলের মধ্যে ৯টি স্টল বন্ধ ছিল। তাছাড়া পাঠক ও দর্শনার্থীদের ভিড় তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। শেষ দিনের বেলায়ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়াও জুলাই শহীদ আবু সাঈদের ছবি প্রদর্শনী থাকলেও সেখানেও উল্লেখযোগ্য আলোকসজ্জা দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের বেরোবি শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় বলেন, “গতবারের তুলনায় দর্শনার্থী, ক্রেতা ও বইপ্রেমীদের আগমন কম হয়েছে। এর একটি কারণ হলো ভুল সময় নির্বাচন। তার ওপর প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে। এখানে যে বইমেলা হচ্ছে, পার্কের মোড় ছাড়া অনেকেই তা জানেন না। তাছাড়া যে সময় ভিড় হওয়ার কথা, সে সময়েই মেলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

বই অরণ্য লাইব্রেরি থেকে স্টল দেওয়া মেহেদী হাসান বলেন, “বইমেলার ব্যবস্থাপনা খুবই খারাপ ছিল। বিশেষ করে প্রথম দিন থেকেই আমরা আলোর স্বল্পতায় ভুগছি। গতকাল লাইটিং দেওয়া হলেও সময়টা খুবই অল্প ছিল। এ কারণে আমাদের বেচাকেনা খারাপ হয়েছে। আমরা ক্ষতির মধ্যে আছি। এ ক্ষতিপূরণ আমাদের দেওয়া উচিত।”

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া হক ইরা বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর স্টলের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু দুপুরে ক্লাস থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আসতে পারেন না। যদি সন্ধ্যার পর, অর্থাৎ ছয়টা বা সাতটার পর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত মেলা চালু থাকত, তাহলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ত।”

বইমেলার আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গত বছরের মতো এবারও শহীদ আবু সাঈদ বইমেলা ২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে। মেলাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের আরও সময় প্রয়োজন ছিল। সময়স্বল্পতার কারণে আমরা সেভাবে আয়োজন করতে পারিনি। তারপরও গতকাল পহেলা বৈশাখে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে এবং আজ সমাপনী অনুষ্ঠান। আমাদের কিছু ভুল-ত্রুটি ছিল, সেগুলো ভবিষ্যতে সংশোধন করে আরও সুন্দরভাবে মেলার আয়োজন করা হবে।”