ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো সব ধরনের ব্যানার ও বিলবোর্ড অপসারণের স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও তা মানছেন না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের নেতৃবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখনো শোভা পাচ্ছে অভিনন্দনসংবলিত বিশাল ব্যানার।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরের উপরে উপাচার্যের কার্যালয়সংলগ্ন দুটি ভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ব্যানারগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো সব ধরনের ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন গুলশানের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার দেখে তিনি তাৎক্ষণিক বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন বিলবোর্ডে তার ছবি ব্যবহার করে অভিনন্দন প্রদর্শন না করে। এর আগেও বিজয় সরণি এলাকায় এলইডি স্ক্রিনে অভিনন্দন বার্তা দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কেন্দ্রীয় কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের উপদেষ্টা হাসানুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক মামুন শেখ, সদস্যসচিব জাকির মির্জাসহ অন্যান্যরা ব্যানারটি সাঁটিয়েছেন বলে তারা স্বীকার করেছেন। এই হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তিনি সাবেক সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর নির্বাচনী প্রচার কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। অন্যদিকে, কর্মকর্তা পরিষদের ব্যানারটি নেপথ্যে থেকে কে বা কারা সাঁটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসানুজ্জামান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা আমার সামনে আসেনি—এটি আমার অজ্ঞতা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করব।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৮৫তম (বিশেষ) সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা বা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই নিষেধাজ্ঞা এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশনা—উভয়কেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাকে শৃঙ্খলাপরিপন্থী হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!