নববর্ষে নতুন স্বপ্ন ও শেকড়ে ফেরার আহ্বান রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের, শিক্ষা, রাবিপ্রবি, পয়লা বৈশাখ,
রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা।   ছবি: আরটিএনএন

বাংলা নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, বরং নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা—এমনটাই মনে করেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যা নতুন আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সূচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি, ভাবনা ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মুনতাসিরুল আলম বলেন, বাংলা নববর্ষ একটি সার্বজনীন উৎসব হলেও এর উদযাপন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। তিনি মনে করেন, নববর্ষের মূল চেতনা কৃষিভিত্তিক জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, যা আজ অনেকটাই আড়ালে চলে যাচ্ছে।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চৈতি রুদ্র বলেন, নববর্ষ তার কাছে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক। এটি পুরোনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, পার্বত্য রাঙামাটির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মাঝে নববর্ষ উদযাপন তাকে শেকড়, বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাইশা আক্তার মনে করেন, নববর্ষ বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ, যা নতুন আশার সূচনা করে।

ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের হিয়া ত্রিপুরা বলেন, বাংলা নববর্ষ আত্মপর্যালোচনা ও নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ দিনটি তাকে নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রেরণা দেয়।

অন্যদিকে, জান্নাতুল বাকিয়া বলেন, নববর্ষ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করে। তবে অতিরিক্ত বাহুল্যতা এ উৎসবের মূল ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, নববর্ষ শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়; বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ঐক্যের বার্তা বহন করে। তাই ঐতিহ্য ধরে রেখে উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাদের।