খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক রোগীর অপারেশন আটকে গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ রোগীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে দুই মাসের বেশি সময় ধরে অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে অক্সিজেন লাইন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড এবং চক্ষু বিভাগের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জেনারেল অপারেশন থিয়েটারে সীমিত পরিসরে কিছু অপারেশন হলেও পোস্ট-অপারেটিভ বেডের সংকটে রোগীদের জ্ঞান ফেরার পর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে ঘাড়ের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল জালাল হোসেন নামে এক রোগীর। দুই মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর অপারেশন শেষে ঈদ পরিবার নিয়ে উদযাপনের পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অপারেশন স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে বর্তমানে অপারেশনের অপেক্ষায় ৩৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতালে রয়েছেন, যাদের বুধবার অপারেশন হওয়ার কথা ছিল।
নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিয়াজ আহমেদ হাওলাদার বলেন, গতকাল আমরা কোনো অপারেশন করতে পারিনি। অন্তত ১০ জন রোগী অপেক্ষায় ছিলেন। এখন নতুন করে সিরিয়াল অনুযায়ী অপারেশন করতে হবে। সামনে ঈদের ছুটি থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
একই চিত্র সার্জারি বিভাগেও। হাসপাতালের ৯-১০ ও ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডে গত দুই দিনে প্রায় ৫০টি অপারেশন স্থগিত হয়েছে। প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০টি অপারেশন হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার (২১ মে) মাত্র দুটি অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. কনক হোসেন বলেন, পোস্ট-অপারেটিভ বেড সংকটের কারণে আমরা নিয়মিত অপারেশন করতে পারছি না। জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া ইউরোলজি, গাইনি, শিশু সার্জারি, নাক-কান-গলা ও চক্ষু বিভাগ মিলিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার শতাধিক রোগীর অপারেশন হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ছয়জনের অপারেশন করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে কাউকে দায়ী না করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল ভবনটি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোর ৬টার দিকে খুমেক হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে জরুরি অপারেশন থিয়েটার পুড়ে যায়। আতঙ্কে রোগী সরানোর সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজন নার্স বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আইসিইউ থেকে সরানোর সময় নাসরিন নাহার নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!