চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামো শংকরবাটি চৌকাপাড়া থেকে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামো শংকরবাটি চৌকাপাড়া থেকে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   ছবি: আরটিএনএন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামো শংকরবাটি চৌকাপাড়া থেকে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সদর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকাপাড়া এলাকায় মোছা. সুমি খাতুনের বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগম নামে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম বেগম সদর উপজেলার নামো শংকরবাটি উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা ও মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, বাড়ির ভেতরে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিক রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম বেগম বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশনি করাতেন। তিনি সুমি খাতুনের মেয়ে, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথীলাকে পড়াতে নিয়মিত ওই বাড়িতে যেতেন। সোমবার সকালে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমি খাতুন, তার স্বামী রুবেল এবং স্বর্ণের দোকানদার দীপক চন্দ্রকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমি খাতুনের স্বর্ণালংকারের প্রতি অতিরিক্ত লোভ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগেও কয়েকজন নারীকে জুস খাইয়ে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে, ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।