চাঁদপুরে ট্রলিচালক হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জন খালাস
আদালতে পুলিশ হেফাজতে আসামীকে নিয়ে যাওয়া হয়।   ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে ট্রলিচালক ওয়াসিম বেপারীকে (২৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আরিফ হোসেন বেপারী (৪৩) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. কামাল হোসাইন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরিফ হোসেন উপজেলার শিকিরচর গ্রামের বেপারী বাড়ির বাসিন্দা।

মামলার অন্য ৫ আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার ওয়াসিম একই বাড়ির মৃত সাহেব আলী বেপারীর ছেলে।

আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, নিহত ওয়াসিমের পরিবারের সঙ্গে একই বাড়ির মিজানুর রহমান ওরফে 'বালু মিজানে'র পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২৯ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মিজানুর রহমান ফোন করে ওয়াসিমকে ঘর থেকে ডেকে নেন।

এরপর রাতের কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের একটি সেচ প্রকল্পের বাঁধের ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে স্বজনরা ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় ২০২০ সালের ৩০ জুন মতলব উত্তর থানায় ওয়াসিমের মা জাহানারা বেগম (৬০) বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়াল তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান, মামলাটি আদালতে চলমান অবস্থায় মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামি আরিফ হোসেন বেপারী নিজে অপরাধ স্বীকার করায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ৫ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আরও অংশ নেন আইনজীবী হারুনুর রশিদ এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী জাবির হোসাইন।