হাকিমপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে।
হাকিমপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে।   ছবি: আরটিএনএন

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ লুটপাটের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রকৃত দায়িত্বশীলদের আড়াল করে একজন জনপ্রতিনিধিকে ‘বলির পাঠা’ বানানো হয়েছে।

চামটাইলপাড়া মোড় থেকে স্থানীয় মন্দির অভিমুখে প্রায় ২৭০ ফুট রাস্তা পাকাকরণের জন্য চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

পিআইসি সভাপতি আব্দুল মতিন হান্নান জানান, সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে জিম্মি করে প্রকল্পে নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কখন কাজ শুরু হয়েছে, কীভাবে হচ্ছে বা কারা কাজ করছে তা জানাই হয়নি। আমি শুধু নামমাত্র সভাপতি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ অন্যদের হাতে।” তিনি আরও বলেন, বিস্তারিত মুখ খুললে তার বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছিল। তারা আশঙ্কা করছেন, এইভাবে নির্মাণ হলে কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যেতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পিআইসি সভাপতি আব্দুল মতিন হান্নানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনা হয় এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া দেওয়া হয়।

সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, “কাজে কিছু ত্রুটি ছিল। অফিসের নির্দেশনায় নিম্নমানের ইট ও খোয়া সরিয়ে আগামীকাল থেকে পুনরায় সঠিকভাবে কাজ করা হবে। বিষয়টি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।” তিনি সাংবাদিকদেরও বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন বলেন, “আমি আগে এই প্রকল্প সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলনের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ব্যবহৃত নিম্নমানের ইট ও খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুনরায় সঠিক মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আইনের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বপুষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।”