ভিজিএফের ৬৬৭ বস্তা চাল জব্দ, আটক ২,
আটককৃত ট্রাক ও ট্রাক ড্রাইবার ও হেল্পার।   ছবি: আরটিএনএন

নেত্রকোনার মদনে অবৈধভাবে পাচারের সময় ২০ টন ভিজিএফের সরকারি চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় চালবোঝাই একটি ট্রাকসহ দুইজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নেত্রকোনা-মদন সড়কের সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোনা সদরের ছোট গাড়া এলাকার মো. নাজিমউদ্দীনের ছেলে ট্রাকচালক মো. শামীম মিয়া (২৮) এবং ময়মনসিংহ জেলার শম্ভুগঞ্জ এলাকার মুরাদপুর গ্রামের মো. ছপিল উদ্দিন আকন্দের ছেলে ট্রাকের হেলপার মো. শাহীন মিয়া (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে মদন উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে ৬৬৭ বস্তা সরকারি সিলযুক্ত চাল ভর্তি একটি ট্রাক বের হয়। চালগুলো বারহাট্টা উপজেলার বাউসী এলাকার তালুকদার রাইস মিলে নেওয়ার কথা ছিল। তবে চাল পাচারের বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে মদন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার পুলিশ ফোর্স নিয়ে কাইটাল ইউনিয়নের হাঁসকুড়ি মৈধাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। পরে সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে ট্রাকটি থামিয়ে চালকের কাছে চালের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে ২০ টন ভিজিএফের চালসহ ট্রাকটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল পাচারের চেষ্টা সম্ভব নয়। তারা ঘটনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মদন উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে রয়েছেন এবং চাল জব্দের বিষয়ে কিছু জানেন না।

অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জব্দ করা চাল ও ট্রাক বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তাকে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।