বাবাকেই কুপিয়ে মাদকাসক্ত ছেলে কারাগারে, মাদকাসক্ত, মাদক, বাবাকে কোপালো ছেলে,
বাবাকেই কুপিয়ে মাদকাসক্ত ছেলে কারাগারে।   ছবি: আরটিএনএন

মাদকের নেশা মানুষকে কতটা নির্মম করে তুলতে পারে, তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ দেখা গেল নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায়। নেশার টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসা এক যুবক এবার হামলা চালালেন নিজের জন্মদাতা বাবার ওপর। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আবু হাশেম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ছেলে ইমামুলকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিহালা গ্রামে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইমামুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতেন তিনি। গত ৭ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন ইমামুল। এ সময় বাবা আবু হাশেম বাধা দিতে এগিয়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।

একপর্যায়ে ঘর থেকে একটি ধারালো দা এনে বাবার ওপর হামলার চেষ্টা চালান ইমামুল। আত্মরক্ষার জন্য আবু হাশেম ঘরের টিনের আড়ালে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দায়ের কোপ টিন ভেদ করে তার বাম হাতের দুই আঙুলে গিয়ে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আবু হাশেমকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বিচার চেয়ে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত আবু হাশেম। অভিযোগের ভিত্তিতে কলমাকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহেরের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইমামুলকে আটক করে।

রবিবার (১০ মে) দুপুরে আটক ইমামুলকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মিকাইল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। পরে অপরাধের সত্যতা ও ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কলমাকান্দা থানার এসআই আবু তাহের জানান, পিতার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।