চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরআনের সম্মানে আয়োজিত সমাবেশে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৮৫ সালের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল তাদের কোনও বিচার হয়নি। যারা জীবিত আছেন তাদের বিচার করতে হবে। যারা মারা গেছে তাদের মরণোত্তর বিচার করতে হবে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত কুরআন দিবসের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
কুরআনের জন্য জীবন দেয়া মানুষগুলোর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা যে কুরআনের জন্য জীবন দিয়েছে সেই কুরআনের সমাজ বাস্তবায়নে আমাদের সর্বাত্মক কাজ করতে হবে।
ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ইউসুফ আল গালিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির, সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল।
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ১৯৮৫ সালের ১২ এপ্রিলের। পদ্মপল চোপরা ও শীতল সিং নামের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দু’জন মুসলিমবিদ্বেষী ব্যক্তি কুরআনের সকল আরবি কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। রিটের বিবৃতিটি ছিলো, “কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেখানে কাফির ও মুশরিকদের হত্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেরণা দেয়া হয়েছে, তাই এই গ্রন্থ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম দিতে পারে।” বিচারক মিসেস পদ্মা খাস্তগীর এই মামলা গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে অ্যাফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেয়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
পরে ১০ মে জুমার নামাজ শেষে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল বের হয়। যাতে তৎকালীন এরশাদ সরকারের নির্দেশে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই বাধার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ মে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে স্থানীয় মুসল্লিরা সমাবেশ আয়োজন করেন। পুলিশ সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করে। উপস্থিত জনতা শুধুমাত্র দু’আ করার অনুমতি চাইলে তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা তা না দিয়ে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেয়। আর এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
মুহুর্মুহু গুলিতে তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দশম শ্রেণীর ছাত্র শিবিরকর্মী আব্দুল মতিন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেলশ্রমিক নজরুল ইসলাম নিহত হন। আহত হয় অর্ধশতাধিক মানুষ।
এরই প্রেক্ষিতে প্রতিবছর ১১ মে কুরআন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ছাত্রশিবির।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!