রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারীর দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় পৌর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জিহাদ সরকার রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখারও অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৯ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বদরগঞ্জ থানা-পুলিশ তাকে আটক করে।
মামলার বাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিং কর্মী মোছা. ফাতেমা বেগম। মামলায় জিহাদ সরকার রানাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন ডিস ফারুক, রাফি মিয়া ও জাহিদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে আসামিরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। টাকা না দিলে হাসপাতালে চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে হাসপাতাল কোয়ার্টারে তার বাসার সামনে গিয়ে আসামিরা গালিগালাজ করেন এবং চাঁদার টাকা নিয়ে বাইরে আসতে বলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার নাতি সামিউল ইসলাম স্বপনকে মারধর করা হয়। পরে মেয়ে মমতা খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশিকুল আরেফিন জানান, আউটসোর্সিং কর্মী ফাতেমা বেগম তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না এবং হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছিলেন। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে জিহাদ সরকার রানা ও ডিস ফারুকসহ কয়েকজন ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে জিহাদ সরকার রানা ও ডিস ফারুকসহ কয়েকজন তার কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেন। পরে তিনি সেখান থেকে বের হতে চাইলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিহাদ সরকার রানাকে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যান।
এদিকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে জিহাদ সরকার রানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন, “কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা বদরগঞ্জে থাকবে না।” ওই পোস্টের কিছু সময় পরই তাকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আটক করা হয়।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, চাঁদাবাজির মামলায় জিহাদ সরকার রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!