চাঁদা না দেওয়ায় টমটম আটক, বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, সারাদেশ, চাঁদা, হামলা, ভাঙচুর,
চাঁদা না দেওয়ায় টমটম আটক, বাড়িতে হামলা ও লুটপাট।   ছবি: আরটিএনএন

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর মালিপাথর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে সিলোনিয়া নদীর পাড়সংলগ্ন ব্রিজের দক্ষিণ পাশে নূর আহম্মদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রাকিবের এক চাচাতো বোন তাদের বাড়িতে বেড়াতে এলে অন্য আরেক চাচাতো বোনসহ গ্রামে ঘুরতে গেলে কয়েকজন বখাটে তাকে উত্ত্যক্ত করে ও আটকে রাখে। পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম মানিক বিষয়টি মীমাংসা করেন। ওই ঘটনার রেশ ধরেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শালধর চৌমুহনী এলাকায় টমটমচালক রাকিবের পথরোধ করে নূর মিয়ার ছেলে রাজু, মুস্তফার ছেলে হেলালসহ কয়েকজন। তারা রাকিবের টমটমের চাবি নিয়ে যায় এবং রাস্তায় গাড়ি চালাতে হলে চা-নাস্তার খরচ দিতে হবে বলে চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাকিব তার ভাই আলমগীর ও রাসেলকে ফোন দিলে তারাও ঘটনাস্থলে যান।

পরে বাজারে থাকা এক ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসা করে দেন এবং টমটম ও চাবি তার জিম্মায় রেখে দেন। পরে রাকিব ও তার ভাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে আবার তারা মারধরের শিকার হন।

ভুক্তভোগী নূর আহম্মদ জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর তাদের কাছে ফোন আসে যে ৭০ থেকে ৮০ জন লোক হামলা চালাতে তাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছে। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। এর কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলায় ৬ লাখ টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাঁদা না দেওয়ায় তারা মারধর করে। পরে রাতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ সীমা আক্তার বলেন, ‘হঠাৎ ৭০-৮০ জন লোক বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। ঘরের কিছুই অক্ষত রাখেনি। ছোট ছোট বাচ্চাদের গায়েও হাত তুলেছে। আমার কানের দুল, মোবাইল ও কিস্তির টাকা নিয়ে গেছে। আমরা হাতজোড় করে পায়ে ধরে অনুরোধ করলেও তারা শোনেনি। কষ্ট করে ঘর বানিয়েছিলাম, সব ভেঙে দিয়েছে।’

ভুক্তভোগীর ভাই আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাটি পারিবারিক হলেও রাজনীতির ক্ষমতা দেখানো হয়েছে। আমার ভাইয়ের কাছে তারা নাস্তার টাকা চেয়েছিল। রাজি না হওয়ায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। কিন্তু পরে যেভাবে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন। আমার গর্ভবতী স্ত্রী ও ছোট সন্তানকেও মারধর করা হয়েছে। আমার বৃদ্ধ মা নামাজ পড়ছিলেন, তার শরীরেও আঘাত করা হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল হালিম জানান, গত ৫০ বছরে পরশুরাম উপজেলায় এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। এভাবে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। অপরাধী যেই হোক, আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।