ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি দিঘির সৌন্দর্যবর্ধনে শুরু হয়েছে খনন কাজ 
ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি দিঘি।   ছবি: আরটিএনএন

লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সিন্দুরমতি পুকুরে চলছে ব্যাপক খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এই দিঘিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারি উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ, তলদেশ গভীর করা, পাড় প্রশস্তকরণ এবং পরিবেশ সুন্দর করার কাজ এগিয়ে চলছে। পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সরিয়ে পুকুরের তলদেশ উন্মুক্ত করা হয়েছে। ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে অপসারণ করে পাড় সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিঘিটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে স্থানীয় জমিদার রাম নারায়ণ চক্রবর্তী মানুষের পানির চাহিদা পূরণের জন্য খনন করেছিলেন। সে সময় এই অঞ্চলে খাল-বিল ও পুকুরই ছিল পানির প্রধান উৎস।

স্থানীয়দের মতে, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে রাম নবমী স্নান ও মেলায় আগত হাজারো মানুষের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি হলে এটি পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও গুরুত্ব পাবে।

এলাকাবাসী জানান, অতীতে এই পুকুরপাড়ে ঘাট, বিশ্রামাগার ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছিল, যা পুনরায় সংস্কারের মাধ্যমে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা রয়েছে।

পুকুরটি ঘিরে রয়েছে একটি লোককথাও। জনশ্রুতি অনুযায়ী, পানির সংকট দূর করতে খননের পরও যখন পানি পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন জমিদার স্বপ্নে দেবী গঙ্গার নির্দেশ পান। সেই অনুযায়ী পূজা সম্পন্ন হলে পুকুরে পানি উঠে আসে, তবে তার দুই কন্যা ‘সিন্দুর’ ও ‘মতি’ পানিতে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাদের নাম অনুসারেই দিঘিটির নামকরণ করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, এই ঐতিহাসিক দিঘির খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শেষ হলে এটি লালমনিরহাট অঞ্চলের পর্যটন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে এর সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে।