ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি।
ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি।   ছবি :ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় ধরনের ব্যবসার আশা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল মালিকেরা। তবে বাস্তব চিত্রে সেই প্রত্যাশার অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। বুকিং কমে যাওয়ায় এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আয়োজক শহরগুলোর হোটেল ব্যবসায়ীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে যে পরিমাণ পর্যটক ও দর্শনার্থী আসার কথা ছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না হোটেল বুকিংয়ে। বরং বেশিরভাগ শহরে বুকিংয়ের হার প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ‘হোটেল আউটলুক রিপোর্ট’-এ বিশ্বকাপ আয়োজনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজক শহরগুলোর হোটেল মালিকদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক পর্যটকের বদলে দেশীয় ভ্রমণকারীর সংখ্যাই বেশি।

বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটল।

প্রতিবেদনে বুকিং কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিফার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত রুম বুকিং বাতিল করা, বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসানীতি এবং ভ্রমণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ হোটেল মালিক জানিয়েছেন, তাদের বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম। অনেকের মতে, শুরুতে ফিফা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রুম সংরক্ষণ করায় কৃত্রিমভাবে চাহিদা বেড়েছিল। পরে অতিরিক্ত বুকিং বাতিল হওয়ায় এখন অনেক হোটেলের বড় অংশ খালি পড়ে আছে।

সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কানসাস সিটিতে। সেখানকার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বুকিংয়ের হার প্রত্যাশার চেয়ে কম এবং তা সাধারণ জুন-জুলাই মৌসুমের তুলনাতেও নিচে নেমে গেছে।

টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত ‘ওয়ান্ডারস্টে বুটিক হোটেলের মালিক ডেইড্রে ম্যাথিস বিবিসিকে  বলেন, বিশ্বকাপের সময় জুন-জুলাই মাসের বুকিং এখনো গত বছরের সংখ্যাকেও ছাড়াতে পারেনি।

তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর হোটেলের কক্ষ পূরণের হার মাত্র ৪৫ শতাংশ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৭০ শতাংশ।

ম্যাথিস বলেন, “আমাদের কাছে এমন প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল যে বিশ্বকাপ হবে বিশাল এক আয়োজন, যা নিয়ে মানুষ বছরের পর বছর আলোচনা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “যখন আমরা ক্যালেন্ডার দেখে বুঝলাম ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলেও বুকিং পুরোপুরি শেষ হয়নি, তখন সত্যিই আমরা হতভম্ব হয়ে যাই।”