নেইমার জুনিয়র।
নেইমার জুনিয়র।   ছবি: সংগৃহীত

কার্লো আনচেলত্তির ফোনটা হয়তো নেইমার জুনিয়রের জন্য ছিল এক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মুহূর্ত। একসময় ব্রাজিল দলে যাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হতো সব পরিকল্পনা, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সেই নেইমারকে এবার নতুন ভূমিকায় ভাবছেন কোচ। বিশ্বকাপে জায়গা  পাচ্ছেন ঠিকই, তবে আর আগের মতো ‘অস্পর্শনীয় তারকা’ হিসেবে নয়, বরং দলের অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক হিসেবে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নেইমারকে রাখতে আগ্রহী কার্লো আনচেলত্তি। তবে তার আগে এই তারকা ফরোয়ার্ডের সামনে রাখা হয়েছে কয়েকটি কঠিন শর্ত। গত বৃহস্পতিবার (১৪মে) ভিডিও কলে নেইমারের সঙ্গে কথা বলেন ব্রাজিল কোচ। সেই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সেলেসাওদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর রদ্রিগো কায়েতানোও।

সেই বৈঠকেই নেইমারকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, দলে তার আগের একচ্ছত্র প্রভাবের সময় শেষ। বিশ্বকাপের মূল একাদশে তাঁর জায়গা নিশ্চিত নয়, এমনকি অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও থাকছে না তাঁর হাতে। আনচেলত্তির পরিকল্পনায় যে প্রথম একাদশ ঘুরপাক খাচ্ছে, সেখানে আপাতত জায়গা হয়নি ৩৪ বছর বয়সী সান্তোস তারকার।

শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও নেইমারকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ বার্তা। বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে তাকে। কোচিং স্টাফের চাওয়া, মাঠের বাইরের চাকচিক্য সরিয়ে পুরো মনোযোগ থাকুক ফুটবলে।

তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় কঠোর হলেও জনসমক্ষে নেইমারের পাশেই দাঁড়িয়েছেন আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচের বিশ্বাস, তরুণ খেলোয়াড়ে ভরা ব্রাজিল দলে নেইমারের অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

নেইমারকে দলে রাখার ব্যাখ্যায় আনচেলত্তি বলেন, “ওর ফিটনেস আগের চেয়ে অনেক ভালো। এই বিশ্বকাপে ও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হবে। বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা ওর আছে। দলের সবাই ওকে ভালোবাসে, আর ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।”

দলের প্রয়োজনে নেইমারকে যেকোনো ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলেও জানান ব্রাজিল কোচ। তার ভাষায়, “আমরা নেইমারকে শুধু ভালো বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে ভাবিনি। আমরা বিশ্বাস করি, ও দলকে সাহায্য করতে পারবে। সেটা ১ মিনিটের জন্য হোক, ৫ মিনিটের জন্য হোক, ৯০ মিনিটের জন্যই হোক কিংবা শুধু একটি পেনাল্টি নেওয়ার জন্যই হোক।”

সবচেয়ে বড় বিষয়, আনচেলত্তির এই বাস্তববাদী অবস্থানে কোনো অহম দেখাননি নেইমার। বরং দলের স্বার্থে যেকোনো দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। কোচিং স্টাফ সূত্রে জানা গেছে, নেইমারের ইতিবাচক মনোভাবই শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য বিশ্বকাপের দরজা খুলে দিয়েছে।

২০২৫ সালে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম নেইমারকে দলে ডাকলেন আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পাওয়ার পর কোচিং স্টাফকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বার্তাও পাঠিয়েছেন নেইমার। সেখানে ছিল সবুজ ও হলুদ হৃদয়ের ইমোজি—সম্ভবত নতুন এক নেইমারের প্রতীক হিসেবেই।