১ম ইনিংসে শান মাসুদের উইকেট নেয়ার পরে মিরাজ।
১ম ইনিংসে শান মাসুদের উইকেট নেয়ার পরে মিরাজ।   ছবি: বিসিবি

নাজমুল হোসেন শান্তর সামনে ছিল বিরল এক রেকর্ডের হাতছানি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩ রানের আক্ষেপ নিয়েই থামতে হলো বাংলাদেশ অধিনায়ককে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি শান্ত।

মঙ্গলবার (১২ মে) ম্যাচের শেষ দিনেও দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করছিলেন শান্ত। তবে পাকিস্তানের স্পিনার নোমান আলীর ঘূর্ণিতে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন তিনি। আম্পায়ারের আঙুল ওঠার পর ১৫০ বলে ৭ চারে ৮৭ রানেই থামে তাঁর ইনিংস।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করেছিলেন শান্ত। ফলে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ইতিহাস গড়া হলো না। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান এখনো টেস্টে তিনবার এক ম্যাচের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। সেই কীর্তির খুব কাছাকাছি গিয়েও ফিরতে হয়েছে শান্তকে।

শান্তর বিদায়ের পর দ্রুতই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলে ২৪০ রান। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৬১ রানের।

বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার আগে আক্ষেপে পুড়তে হলো অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি গড়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে ৮৭ রানে।

প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন দারুণ ছন্দন। পাকিস্তানের স্পিনার নোমান আলীকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ১৫০ বলের ইনিংসে খেলেন ৭টি চার। আর তাতেই শেষ হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসার ইনিংস।

বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ২৬ বলে ৫ রান করে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর ২২ রান করে আউট হন সাদমান ইসলাম।

দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন শান্ত ও মুমিনুল হক। মুমিনুল খেলেন ১২০ বলে ৫৬ রানের ইনিংস, যেখানে ছিল ৪টি চার। দুজনের জুটিতে ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল বাংলাদেশ।

তবে শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত ভাঙতে থাকে ইনিংস। মুশফিকুর রহিম করেন ৩৭ বলে ২২ রান। উইকেটকিপার লিটন দাস যোগ করেন ১১ রান।

নিচের সারিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাত্র ২৭ বলে ২৪ রান করেন তিনি, মারেন ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। তাইজুল ইসলাম করেন ৭ বলে ৩ রান।

শেষদিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন তাসকিন আহমেদ। মাত্র ৫ বলে ১১ রান করেন তিনি, ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা। আর এবাদত হোসেন অপরাজিত থাকেন ৪ রানে।

পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার নোমান আলী। ৪ উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এ ছাড়া হাসান আলী নেন ৩ উইকেট এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি শিকার করেন ২ উইকেট।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে অতিরিক্ত থেকে আসে ৭ রান। দলটি ডিক্লেয়ার দেয় ৭০.৩ ওভারে। এখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে পাকিস্তানের ব্যাটিং।

এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ৫ রান। ২ রানে ইমামুল হককে ফেরালেন তাসকিন আহমেদ।