বিশ্বকাপে লোকসান ঠেকাতে বাড়তি অর্থ দেবে ফিফা।
বিশ্বকাপে লোকসান ঠেকাতে বাড়তি অর্থ দেবে ফিফা।   ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে প্রাইজমানি ও অংশগ্রহণ ফি বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। আগামীকাল কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যয়, আবাসন খরচ এবং করের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছিল, টুর্নামেন্টের শেষ ধাপে পৌঁছালেও লাভের বদলে লোকসান গুনতে হতে পারে।

এর আগে ফিফা ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিটি দল অন্তত ১০.৫ মিলিয়ন ডলার এবং চ্যাম্পিয়ন দল ৫০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে এই অর্থ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ যুক্তরাসষ্ট্রের ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কর ছাড়ের সুবিধা না থাকায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারে কর দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, ফ্লোরিডায় স্টেট ট্যাক্স না থাকলেও নিউ জার্সিতে ১০.৭৫ শতাংশ এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩.৩ শতাংশ কর প্রযোজ্য।

গত ডিসেম্বরে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাউন্ড অব ৩২-এ উঠলে অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে আরও ৮ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল। তবে ইউরোপের প্রভাবশালী ফুটবল ফেডারেশনগুলো, বিশেষ করে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, দাবি করেছে-সেমিফাইনালে না পৌঁছালে খরচ সামলে লাভ করা কঠিন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বর্তমানে ফিফার আর্থিক অবস্থা বেশ শক্তিশালী। সংস্থাটি চার বছরের চক্রে ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে শুধু আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেই আসবে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।

এই আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে ফিফা তাদের ২১১টি সদস্য দেশের জন্য নির্ধারিত ২.৭ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন তহবিলও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগে প্রতিটি অ্যাসোসিয়েশন ৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি কনফেডারেশন ৬০ মিলিয়ন ডলার করে পাওয়ার কথা থাকলেও ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় এ অনুদান আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফিফার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যোগ্য দলগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা বৈশ্বিক ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।