রাঙামাটির সাজেকে চলমান উত্তেজনা ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় সরকারকে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না ছুটে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সাজেকের পরিস্থিতি তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে কী ঘটছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না ছুটে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান জামায়াত আমির।
এদিকে, সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সকালে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আটকে পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এলাকার কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরোধের জেরে সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির ডাক দেয়। অবরোধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি অভিযোগ করে, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের আগের অবস্থানগুলোতে অবস্থান করছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও তোলে সংগঠন দুটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছয় দিন অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, সাজেকে ইউপিডিএফের কর্মকাণ্ড থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতার এ বক্তব্য সামনে এসেছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!