‘রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করা সমিতির সভাপতি এমপি মিষ্টি’
‘রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করা সমিতির সভাপতি এমপি মিষ্টি’।   ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করা সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, যিনি ‘এমপি মিষ্টি’ নামেও পরিচিত।

ব্যারিস্টার আরমান এক স্ট্যাটাসে জানান, দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’ (রেজিঃ নং- ৫৫/৯২ ইং)-এর সকল কার্যক্রম ও আবেদনের মূল দায়িত্বে রয়েছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর পাঠানো একটি আবেদনপত্রে আবেদনকারী ও পদবি হিসেবে ‘ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি (সভাপতি, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ, মিরপুর, ঢাকা)’ উল্লেখ রয়েছে। আবেদনপত্রের নিচে সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে, যা প্রমাণ করে তিনি সমিতিটির সভাপতি পদে থেকে এটি পরিচালনা করেছেন।

আরেকটি স্ট্যাটাসে মিরপুরের এই ঘটনাকে ‘রাভডা ট্রাজেডি’ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’-এর আড়ালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকার দখলদারি ও অপকর্ম চালানো হয়েছে। নথিপত্র ও সমিতির সদস্য তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তালিকার ৪৯ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান পাপেল। সমিতির কার্যক্রম, দখলদারিত্ব ও নানা অনিয়মের পেছনে পাপেল ও তাঁর সহযোগীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, মিরপুরের ৫২ বছরের পুরনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই দখলদারিত্ব চালানো হয়েছে। এতে মিরপুরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সমবায় সমিতির আড়ালে থাকা অবৈধ দখলদার ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।