সাদিক কায়েম
সাদিক কায়েম।   সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বিদায়কালে তার দায়িত্ব ছিল ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু'তাসিম বিল্লাহ শাহেদী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার ষান্মাসিক প্রোগ্রাম। সে উপলক্ষে আজ বৈঠকে আমি, সাদিক কায়েম ভাইসহ আরও ৯ জন দায়িত্বশীলকে সংগঠন থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ছাত্রত্ব ও সাংগঠনিক দায়িত্ব শেষ করে সাংঠনিক প্রক্রিয়ায় প্রতি ছয় মাস পর পর দায়িত্বশীলদের বিদায় দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী হিসেবে লড়তে যাচ্ছেন এই তুর্কী তরুণ ভিপি।

কিন্তু কেন একজন তরুণ ছাত্রনেতাকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের চেয়ারে বসাতে চায় জামায়াতে ইসলামী? এর পেছনে রয়েছে তার আধুনিক দূরদর্শী চিন্তা। সাদিক কায়েম ইতোমধ্যে বিশ্বের বেশ কিছু উন্নত দেশ সফর করেছেন। সেখানকার আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, উন্নত অবকাঠামো, ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং নাগরিক সেবার ডিজিটাল রূপান্তর খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। আর সেই গ্লোবাল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ঢাকার চিরচেনা জ্যাম, দূষণ আর অপরিকল্পিত আবাসনকে বিদায় জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, পরিবেশবান্ধব ও নাগরিকবান্ধব মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।

এদিকে, বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেছেন- ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।’

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছিলেন সাদিক কায়েম। সেই জনপ্রিয়তার ওপর ভর করেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ঢাকসুর ভিপি হিসেবে।