জনগণের স্বার্থে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে: আতাউর রহমান
যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।   ছবি: সংগৃহীত

পরিবহন ভাড়া নির্ধারণে মালিকপক্ষের চাপ নয়, বরং দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে অরাজক পরিস্থিতির আশঙ্কা আগে থেকেই করা হয়েছিল, যা এখন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবহন খাতে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে।

তিনি আরও বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করতে হলে তা অবশ্যই যাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনায় করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতের নির্ধারিত শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং তেলের দাম কমলে সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

তিনি বলেন, কমিটিতে মালিকপক্ষের চারজন, সরকারি কর্মকর্তা ছয়জন এবং যাত্রীদের প্রতিনিধি মাত্র একজন রয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই গঠন বাস্তবে মালিকপক্ষকেই বেশি প্রাধান্য দেয়, যা ভাড়া নির্ধারণে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির অনুপাতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানো যুক্তিসঙ্গত হলেও মালিকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে তা ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ৭ পয়সার পার্থক্য সামগ্রিকভাবে হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ভাড়া নির্ধারণে যে ১২টি শর্ত বিবেচনা করা হয়েছে, তার কোনোটি বাস মালিকরা যথাযথভাবে পালন করেন না। নিয়মিত ইঞ্জিন ওভারহোলিং, নির্ধারিত সময় অন্তর রক্ষণাবেক্ষণ, গ্যারেজে সংরক্ষণ—এসব নিয়ম মানা হয় না। এমনকি ১০ বছরের হিসাব ধরা হলেও অধিকাংশ বাস ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলাচল করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাসের দামের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ বাসই পুরোনো ও জরাজীর্ণ। তাই এসব শর্ত বাস্তবায়ন না হলে ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই।

বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি মালিকপক্ষের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে, তবে এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।