দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ ১৭ হাজার মানুষ। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার ৫৭টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার।
দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে সাতজন, কক্সবাজারে ৩২ জন-যার মধ্যে স্থানীয় ১৯ জন ও রোহিঙ্গা ১৩ জন-চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৪০ জন।
দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৮৪৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ অনুদানসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৭৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, খাগড়াছড়ির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানের জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল এবং যশোর জেলার জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ অনুদান, অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং হাজার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর জন্য আরও ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য মোট ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ত্রাণ বরাদ্দও অব্যাহত রয়েছে, যাতে যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়া যায়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৭৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৪ হাজার ১০৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৭ হাজার ৯১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!