শিক্ষার্থীদের লংমার্চের আগে প্রায় ফাঁকা ঢাকার রাস্তা
শিক্ষার্থীদের লংমার্চের আগে প্রায় ফাঁকা ঢাকার রাস্তা।   ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে ডাকা ‘লং মার্চ’ কর্মসূচিকে ঘিরে আজ বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অন্যান্য কর্মদিবসের তুলনায় আজ সকাল থেকে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ছিল বেশ কম। ফলে প্রতিদিন সকালে রাজধানীতে যে তীব্র যানজটের চিরচেনা রূপ দেখা যায়, আজ সেখানে দেখা গেছে উল্টো চিত্র— রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা।

যানবাহন কম থাকার কারণে বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।

সাধারণত সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে শুরু করে বিজয় সরণি, মহাখালী, কাকলী, বনানী, কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর (এয়ারপোর্ট) এলাকাগুলোতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকে। তবে আজ সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চিরচেনা জ্যামের রাস্তাগুলো অনেকটাই ফাঁকা ও যানজটমুক্ত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আজ বুধবার নির্ধারিত পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টার পর থেকে তারা পুনরায় রাজপথে নামবেন। শিক্ষার্থীরা উত্তরা থেকে লংমার্চ শুরু করে শিক্ষা ভবনের দিকে অগ্রসর হবেন এবং এই কর্মসূচি চলাকালে রাস্তা অবরোধ করা হবে।

এই ঘোষণার কারণেই সকাল থেকে সড়কে গাড়ি নামানোর ক্ষেত্রে অনেক পরিবহন মালিক ও চালক সতর্কাবস্থা অবলম্বন করেছেন এবং গাড়ি কম নামিয়েছেন।

গুলিস্তান থেকে আব্দুল্লাহপুর রুটের বাসচালক মোহাম্মদ শাহীন হোসেন (৪৫) তার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, গতকাল সকাল থেকেই আমরা ছাত্রদের রাস্তা অবরোধের কারণে তীব্র জ্যামের মধ্যে আটকে ছিলাম। আজ সকাল থেকে রাস্তা ফাঁকা দেখছি। তবে শুনলাম, দুপুরের পর নাকি তারা আবার রাস্তায় নামবে। যদি দুপুরের পর রাস্তা অবরোধ করা হয়, তবে রাজধানীতে গাড়ি চালানোর মতো আর কোনো পরিস্থিতি থাকবে না। আমরা আবার চরম ভোগান্তিতে পড়ব।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাফিক পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উত্তরা জোনের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান জানান,
"জানতে পেরেছি, দুপুরের পর ছাত্ররা নামতে পারে। তার জন্য বাড়তি পুলিশ ও ওয়াটার ক্যানন উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব— দুই পাশে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।"

এদিকে নগরবাসী আশঙ্কা করছেন, দুপুরের পর লংমার্চ ও সড়ক অবরোধ শুরু হলে রাজধানীর উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, কুড়িল, বনানী, মহাখালী ও শিক্ষা ভবন অভিমুখী সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।