পরকীয়ার জেরে প্রবাসীকে ৮ টুকরো করে হত্যা: মূলহোতা তাসলিমা গ্রেপ্তার
হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করার আলোচিত ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনাকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

বুধবার (২০ মে) নরসিংদীর শিবপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে অবস্থানকালে তাসলিমার সঙ্গে প্রবাসী মোকাররমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের সূত্র ধরে তাসলিমা মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন। গত ১৩ মে দেশে ফিরে মোকাররম মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার বাসায় দেখা করতে যান। সেখানে বিয়ে, টাকা ফেরত এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফাঁসের হুমকিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাসলিমা ও হেলেনা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মে সকালে মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে তাসলিমা, হেলেনা ও হেলেনার মেয়ে হালিমা হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরো করা হয়। পরে খণ্ডিত মরদেহের অংশগুলো বাসার নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথার অংশ প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলে রাখা হয়।

গত ১৭ মে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ঘটনার পর র‌্যাব-৩ অভিযান চালিয়ে সহযোগী আসামি হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করলেও প্রধান আসামি তাসলিমা পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে সিটিটিসির সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি বিশেষ টিম গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় মুগদা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তাসলিমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।