আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। ঢাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

বুধবার (২০ মে) মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিএমপি দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬–এর প্রতিপাদ্য “আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি পুলিশের দায়িত্ববোধ ও জনসেবার প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজধানীতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, মাদক, সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, অনলাইনভিত্তিক অপরাধ দমনে ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সম্প্রতি সিটিটিসি–এর অধীনে গড়ে ওঠা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে, যা সাইবার অপরাধ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অভিযান চলছে। অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা যানজট নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনসহ আধুনিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট চালুর ফলে সড়কে শৃঙ্খলা বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নাগরিক সেবা সহজ করতে “হ্যালো ডিএমপি” ও “হোটেল বোর্ডার সিস্টেম”সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপ চালুর কথা তুলে ধরে কমিশনার বলেন, অনলাইন জিডিসহ বিভিন্ন সেবা এখন আরও সহজ ও দ্রুত করা হচ্ছে। ডিএমপিকে জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিসম্পন্ন বাহিনীতে রূপান্তর করাই তাদের লক্ষ্য।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিংমল, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, জাল নোট ও ছিনতাই ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।

নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে কমিশনার বলেন, “আপনাদের একটি সঠিক তথ্য বড় ধরনের অপরাধ ঠেকাতে পারে। এলাকায় কোনো কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি বা চাঁদাবাজের তথ্য থাকলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান কিংবা ৯৯৯–এ কল করুন।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি পুলিশের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।