রূপনগরে অটোরিকশাচালক জানে আলমকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।
রূপনগরে অটোরিকশাচালক জানে আলমকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর রূপনগরে অটোরিকশাচালক জানে আলমকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। এ সময় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, মঙ্গলবার ঢাকা ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রানা, আবু হানিফ, মিনহাজ, কুরবান আলী ও সিয়াম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা পরস্পরের বন্ধু এবং দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। টঙ্গীতে বসে তারা একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ মে রাতে রানা, মিনহাজ, কুরবান ও আবু হানিফ দিয়াবাড়ী এলাকায় জড়ো হয়ে টার্গেটের অপেক্ষায় থাকে।

রাত আনুমানিক ১টার দিকে রানা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে চালক জানে আলমকে বেড়িবাঁধ এলাকায় যেতে বলেন। নির্জন স্থানে পৌঁছানোর পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

পরে মরদেহ কম্বলে মুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। শেষ পর্যন্ত রূপনগরের বেড়িবাঁধ এলাকার পেপসির মোড়সংলগ্ন পাকা রাস্তার ঢালে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা অটোরিকশা ও ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন নিয়ে টঙ্গীতে চলে যায়। পরে চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচা চক্রের কাছে ৪০ হাজার টাকায় অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয়।

গত ১৬ মে রূপনগর থানার পেপসির মোড়সংলগ্ন এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অর্ধগলিত অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সিআইডি–এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত জানে আলম পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে রূপনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করলে র‌্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও গাজীপুরে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ও অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।