তিন ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে নবম পে-স্কেল, ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপ কার্যকর
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে।   ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, বরং তিন অর্থবছরে শতভাগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই বছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় বছরে যুক্ত হবে বিভিন্ন ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। পরে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্র বলছে, পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করেছে। দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ কার্যকর হবে। এ ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে, পরবর্তী অর্থবছরে আবারও মূল বেতনের ওপর সমপরিমাণ সমন্বয় যুক্ত হবে। তবে এই সময় আগের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে দুই বছরের মধ্যেই মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হবে।

তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, বিশেষ প্রণোদনা, ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা একযোগে কার্যকর করা হচ্ছে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এসব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা তৃতীয় বছর অর্থাৎ ২০২৮–২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, একবারে সব সুবিধা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধির কৌশলটি যৌক্তিক। গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট বাড়েনি। ফলে নিত্যপণ্যের ব্যয় বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরকারের ওপরও চাপ রয়েছে।

এদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন যৌক্তিক। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা মাথায় রেখে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত কৌশলী পদক্ষেপ।

জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা–স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার সুপারিশও থাকতে পারে।

পেনশনভোগীদের সুবিধাও বাড়তে পারে

জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনভোগীদের পেনশনও শতভাগের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এ ছাড়া মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে কত বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।