দখলের থাবা বিস্তৃত হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে। বিস্তৃর্ণ এলাকার কোথাও বাঁশ, কোথাও টিনের বেড়া দিয়ে দখল পাকা করেছে প্রভাবশালীরা। এজন্য উজার করা হয়েছে সৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগান। বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও বিক্রি করছে এই সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি এই জমি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখল ও বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে ঝাউগাছ। বালিয়াড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য ঘের। বড় বড় এলাকা দখল করে সেগুলোকে প্লট আকারে ভাগ করা হয়েছে। দখলকৃত এলাকাগুলো পাহারা দিতে নিয়োগ করা হয়েছে পাহারাদার। পাশাপাশি বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারা ঝাউবাগান কেটে বালিয়াড়ি দখল করে জমি বিক্রি করছে, তা অনেকেই জানেন। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না। ফলে দখলকারীরা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দখলদারদের কাছ থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব জমি কিনছেন গরিব মানুষেরা। মাত্র ত্রিশ হাজার টাকায় একটা প্লট কিনতে পারায়- নদী ভাঙনের শিকার, ভূমিহীন প্রান্তিক ও মাথাগোজার ঠাঁই খুঁজে ফেরা মানুষেরা এখানে ঝুঁকেছেন। সরকারি দলিলের পরিবর্তে সাদা কাগজে তাদের নামে জমি বরাদ্দ দিচ্ছে দখলদাররা।
আরটিএনএন’র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে- রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এই দখল কার্যক্রম। আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পতিত সরকারের নেতাকর্মীদের নাম এলেও বর্তমানে নতুন করে কিছু ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দখলচক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন মহেশখালীর বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা সায়েম। তাঁর সঙ্গে সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন, এরশাদ ও কায়সারসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাঁদের মধ্যে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তিও রয়েছেন।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সায়েমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে’ আছেন বলে কল কেটে দেন। পরে আর ফোন রিসিভ করেননি এবং মুঠোফোনে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
এ বিষয়ে বনবিভাগের কক্সবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক বলেন, “দখলদারদের নির্দিষ্ট তালিকা আমাদের কাছে নেই, তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করা সম্ভব।
এতোদিনে প্রশাসন তেমন কোনো পদক্ষেপ না নিলেও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, “দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
পরিবেশবিদদের মতে, উপকূলীয় ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলকে সুরক্ষা দেয়। এসব বনভূমি উজাড় ও বালিয়াড়ি ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকি। তাই দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!